রাজশাহীর মতিহারে দিবালোকে পুকুর ভরাট; নিরব প্রশাসন 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন ডাঁশমারী মধ্যপাড়ায় একটি পুকুর অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা মনোয়ারের বিরুদ্ধে। নগরীতে জলাশয় ও পুকুর ভরাট বন্ধে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনের আলোয় চালিয়ে যাচ্ছে ভরাট কার্যক্রম। যা পরিবেশ ও নগরীর ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই পুকুরের আংশিক অংশ ৬শতক জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। এই ৬ শতকের মালিক মনোয়ার ও মোশাররফ নামের দুই ব্যক্তি। মনোয়ার ইনকাম ট্যাক্স অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার ক্ষমতায় পুকুরটি ভরাট করছেন বলেও জানায় এলাকাবাসী।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে পুকুর ভরাটকারীরা নগরীর পরিবেশকে বিপর্যস্ত করছে। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন বা তা ভরাট করা নিষিদ্ধ। এছাড়া, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ।

২০২০ সালে উচ্চ আদালত এক রায়ে দেশের ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরগুলোকে “প্রাকৃতিক জলাধার” হিসেবে ঘোষণা করে এবং এগুলো সংরক্ষণে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। তবে বাস্তবে এই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক ব্যক্তি জানান, প্রভাবশালীরা প্রভাব খাটিয়ে পুকুর ভরাট করছেন। আগে এই এলাকায় অনেকগুলো পুকুর ছিল অথচ এখন হাতে গোনা কয়েকটি পুকুর অবশিষ্ট আছে। এই পুকুরগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পদ, অথচ এগুলো ভরাট করা হচ্ছে। প্রশাসন কিছুই করছে না”।

এলাকাবাসীরা জানান, এভাবে পুকুর ভরাট হয়ে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। শহরে আকস্মিক পানি সংকট দেখা দিলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে পানির উৎস না থাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ডাঁশমারী এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের এই ঘটনায় মহল্লাবাসী ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুকুর ভরাট বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে প্রভাবশালী মনোয়ার নিজেকে রাজশাহীর ইনকাম ট্যাক্স অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে সাংবাদিককে তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বলে আমার কাছে সাংবাদিকরা জিম্মি। এই নিউজে আমার কিছুই যায় আসেনা। কারণ আমি ছাড়া কোন ট্যাক্স ফাইলে কাজ হয় না। আমার কাছে অনেক সাংবাদিক তাদের কাজ নিয়ে আসে। আর এটি পুকুর না জলাশয়!

এবিষয়ে বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button